দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং সেবা এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে।
এছাড়াও আধুনিক উপায়ে যে কোনো ঘটনার তদন্তে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ, প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিষয়ে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পুলিশকে সময়োপযোগী করে তোলার কাজ চলছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন এ বিষয়ে বলেন, পুলিশ বাহিনীকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সংযোজন, বিশেষ তদন্ত পদ্ধতির প্রসার এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত পরিবর্তনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষ ঘরে বসে যাতে অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি), পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও মামলা সংক্রান্ত সেবা পায় সেজন্য ইন্সিডেন্টস ট্র্যাকিং সফটওয়্যার, পুলিশ কমান্ড অ্যাপ ও চার ডিজিটের হটলাইন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শাহাদাত হোসাইন আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নতির জন্য টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পুলিশ অপরাধীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান চালানোসহ প্রযুক্তি নির্ভর নজরদারির মাধ্যমে অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে যথেষ্ট ভালো, তবে এটি আরও উন্নত করা প্রয়োজন। পুলিশ বাহিনী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এখন অনেক কাজ করছে। এছাড়াও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অপরাধীদের প্রতিরোধ ও অপরাধ সংক্রান্ত তদন্ত করার ক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
সূত্রমতে পুলিশকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে অপরাধ দমনে সাইবার ক্রাইম ইউনিট, পিবিআই এবং ডিএনএ ল্যাবরেটরির মতো বিশেষায়িত ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া মিরপুরে ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার (আইপিআরআইসি) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান অপরাধ মোকাবিলায় অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ), ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনের মতো আধুনিক ইউনিট গঠন করা হয়েছে।
আধুনিক পদ্ধতিতে তদন্তের জন্য পুলিশ সদস্যদের দেশে-বিদেশে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাঁজোয়া যান, জলকামান ও আধুনিক যোগাযোগ সরঞ্জাম যুক্ত করা হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকায়নে বর্তমান সরকার বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পুলিশকে আধুনিক ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এছাড়াও আইপিআরআইসি গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে, যা বাংলাদেশ পুলিশের ক্রমাগত শিক্ষা ও অভিযোজনের পথ দেখাবে।
পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক সাজে সজ্জিত এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে জনগণের সেবা নিশ্চিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে পুলিশের মধ্যেও গুণগত পরিবর্তন এসেছে। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ নিজেদেরকে জনগণের পুলিশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, সরকার পুলিশকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার পুলিশকে আরও দক্ষ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিরও চেষ্টা করছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।
সূত্রমতে সরকার সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এটি বাস্তবায়নে কাজ অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। জনগণ এই নম্বর ব্যবহার করে সহজেই ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের সেবা পাচ্ছে।
পুলিশের জীবনমান আরও উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যরা অনেক ঝুকির সম্মুখিন হয় এবং কখনও কখনও দুর্ঘটনার শিকার হয়।
এমতাবস্থায় পুলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং তাৎক্ষনিকভাবে তাদের জন্য যেকোনো সহায়তার ব্যবস্থা আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির মহাসচিব অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিয়া লুৎফর রহমান চৌধুরী বলেন, পুলিশকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও আরও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি জনগণের সেবা নিশ্চিতে এবং তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করার জন্য পুলিশের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দায়িত্বশীল আচরনের জন্য পুলিশের মানসিক প্রশান্তি প্রয়োজন। সেজন্য তাদের নিরাপত্তা ও আবাসন ব্যবস্থা নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করতে হবে। সূত্র: বাসস
কে